জানার কোনও শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই

 

আমরা যারা ২০১০ এর পর মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক দিয়েছি, অর্থাৎ যারা ‘জেনারেশন আলফা’ তে বিচরণ করছি, বেশিরভাগ উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েদের প্রাইভেট টিউশন ছিল। স্কুল ছিল আমাদের চারণভূমি। যেখান থেকে সব নিষিদ্ধের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আমরা বন্ধুত্বের অনাবিল আনন্দে সাহসে ভর করে মুখোমুখি হতাম প্রাতিষ্ঠানিক শংসা পত্রের পরীক্ষায়। মাধ্যমিক পর্যন্ত বাড়ির বাঁধনে পড়াশুনো করতে হত মধ্যবিত্ত পরিবারে। আমরা স্কুলে থাকাকালীনই শিক্ষকদের শাসন আইনত নিষিদ্ধ হয়ে যায় ছাত্রদের উপর। তাতে ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কের উপর কী প্রভাব পড়েছে এই নিয়ে তেমন কোনও গবেষণা পত্র চোখে পড়েনি। অথচ ২০২০ সাল থেকে দু বছরের বেশি ছাত্রছাত্রী শূন্য বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা উপস্থিতি জানিয়ে মিডডে মিল, কন্যাশ্রী কিংবা টীকা-করণের কাজ করে যাচ্ছেন চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখায় স্বাভাবিক ভাবেই টনক নড়েছে সাধারণ মানুষের। কিন্তু সর্বত্রই পানশালা রেস্তোরা খোলার সাথে স্কুল বিশ্ববিদ্যালয়কে টেনে আনা বড়ই বেমানান ঠেকে। বিষয়টা এমন যেন দুটো প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেই সমস্যা মিটে যাবে। কিংবা সরকার এখন শুধু আর্থিক লাভ দেখছে, আর উচ্চমধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের এখন সামাজিক রুচিতে ঘা লাগছে। আর নিম্নবিত্ত এবং দারিদ্রসীমার নিচের পরিবারের ছেলে মেয়েরা শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে নিয়ম মাফিক বঞ্চিত হয়ে আসছে লকডাউন আসার বহুকাল আগে থেকেই।

স্কুল ছুট কারা?

এখনও পর্যন্ত একটা মধ্যযুগীয় বর্বর ধারণা আছে সমাজে, উচ্চ শিক্ষার পথে ‘নিম্ন মেধা যাদের, তারা ক্রমশ শিক্ষাগত যোগ্যতা হারায় । যুগের সাথে পুঁজির সাম্রাজ্যে এখন তারাই শিক্ষার যোগ্যতা হারায় যাদের অর্থ নেই। কোনও ভণিতা না করেই দেখা যাচ্ছে নিম্ন বিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার থেকে বঞ্চিত হয়।

স্কুল ছুট কেন হয়?

যে সময় পর্যন্ত পাশ ফেল ছিল ততদিন একটা কথা প্রচলিত ছিল “ আর কত দিন ডাব্বা মারবি?” অতএব তথাকথিত ‘নিম্ন মেধার ছলে মেয়েরা একবারে সফল না হলেই যে স্কুল পড়াশুনো ছেড়ে দেওয়ার মনোভাবাপন্ন ছিল না এটা স্পষ্ট। কিন্তু যেসব পরিবারে খাদ্য সুনিশ্চিত নেই, যে দেশের ক্ষুধার্তের তালিকায় বিশ্বের ১০৭ টা দেশের মধ্যে ১০১ স্থান জোটে, সেই নির্মম বাস্তবে স্কুল ছুটের পেছনে পেটের খিদে অবশ্যই একটা প্রধান কারণ। যে পরিবারে প্রতিদিনের ভাত রুটি অনিশ্চিত, সেই পরিবার কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পেছনে অর্থ ব্যয় করবে? সংসারে একটা ছেলে জন্মালে তার নিজের ব্যক্তি ও পরিবারের স্বার্থে যত দ্রুত সে অর্থ উপার্যন করতে পারবে, তত দ্রুত সে এই সমাজে টিকে থাকার যোগ্যতর হয়ে উঠবে। আর মহিলাদের থাকে চূড়ান্ত সামজিক লড়াই। তাই এই অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় নিম্নবিত্ত বা দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী মানুষের কাছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পেছনে অর্থ এবং সময়ের বিপুল ব্যয় নেহাতই বিলাসিতা।

বর্তমান পরিস্থিতি

তবুও এই নির্মম বাস্তবের মধ্যেও কিছু ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক গড়ে ওঠে অচলায়তনে। বহু ছাত্রছাত্রী সমস্ত অর্থনৈতিক সামাজিক বাধা উপড়ে নতুনকে জানতে চায়। কোনও অজানা খিদে মেটাতে স্কুল কলেজ-মুখী হয় নিয়মিত। শিক্ষকরা সার্থকতা খুঁজে পেতেন জীবনের। যদিও এটা বর্তমান পরিস্থিতি নয়। গত দু বছর লকডাউনে নিম্নবিত্তের আয় বহুল মাত্রায় কমে তীব্র অনিশ্চয়তায় ভুগছে। স্কুলে শিক্ষকরা যান কিন্তু কোনও ছাত্রছাত্রী আসে না। ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকেরা প্রত্যেকেই দু'বছরে এগারোটা থেকে চারটে অন্য রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ছাত্রছাত্রীদের বেশিরভাগ সবাই অর্থ উপার্জনে যুক্ত বিভিন্ন ভাবে। শিক্ষকরা এখন অনলাইন ক্লাস করাচ্ছেন। মিডডে মিল, কন্যাশ্রী, টিকা-করণের কাজ করছেন, মাইনের খোঁজ করছেন। অনেকেই শিক্ষক জীবনের সার্থকতাও খুঁজছেন যেমন অস্পষ্ট ভাবে খুঁজে বেড়াচ্ছেন ছাত্রছাত্রীদের অনলাইন ক্লাসের মধ্যে দিয়ে। যে পরিকাঠামোয় এতদিন শিক্ষকরা ছেলে মেয়েদের কাছে পৌঁছেছেন, তার মাঝখানে এখন যোজন যোজন দূরত্ব তৈরি হয়েছে। গ্রামের দিকে বেশিরভাগ অঞ্চলেই মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকেনা। অর্ধেক ছেলেমেয়ে এখনও মোবাইলকে একটা বড়লোকি চালের বিনোদন মাধ্যম হিসাবে দেখে। সেই মাধ্যমে যখন তাদের পড়াশুনো করতে হচ্ছে তা পুরোটাই সোনার পাথর বাটির মতো। কখনও শিক্ষকরা কিছু বলছেন তা ছাত্রছাত্রীরা শুনতে পান না, কখনও বা ছাত্রছাত্রীদের কথা স্পষ্ট শোনা যায়না। দেখা যায়না ব্ল্যাকবোর্ড বা বই এর লাইন। তাছাড়া প্রতি মাসে  নেট রিচার্জ করার সামর্থ্য বহু পরিবারের নেই

 

স্কুল কী প্রভাব ফেলে?

প্রত্যেক প্রজন্মই চায় তার পরের প্রজন্ম আগের তুলনায় ভালো থাকুক। প্রত্যেক বাবা মা চান তাদের তুলনায় তাদের সন্তান যেন উন্নত মানের জীবন যাপন করতে পারে। সামাজিক সম্মান লাভের আশা হোক বা পুঁথিগত শিক্ষার প্রতি সামাজিক প্রতিষ্ঠা পাওয়ার অমোঘ হাতছানি বাধ্য করে সন্তানদের নুন্যতম শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্কুলে ভর্তি করতে। স্কুলে পড়লে, একটু ইংরাজি জানলে অন্তত না পড়ে বা না জেনে কেউ কাগজে সই করবে না, ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। রাইট টু এডুকেশন জ্ঞান বা শিক্ষা যে আমাদের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সেই বোধ তাদের মধ্যে থাকলেও তা কখনওই প্রকট ভাবে কাজ করে না। যদি এই শিক্ষার অধিকার বোধ নিম্নবিত্ত বা দারিদ্রসীমার নীচের মানুষগুলোর মধ্যে থাকত তবে রেশন কিংবা লোকাল ট্রেনের দাবির মতো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়েও এরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সচেতন হয়ে কথা বলতেন।

স্কুল না গেলে কী হবে?

রবীন্দ্রনাথ কখনও স্কুল যাননি এ কথা সর্বজন বিদিত। কিন্তু এই মুহূর্তে নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের স্কুল না গেলে পড়াশুনো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও পড়াশুনো করে কী হবে? চাকরির বাজার নেই, আর লাখ লাখ টাকা খরচ করে কেউ কোচিং পড়ছে, কেউ ঘুষ দিচ্ছে চাকরির জন্য। এমনিই গরিবের ছেলেমেয়ে আর কদ্দুর লেখাপড়া করবে এই সংস্কৃতি আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলে মেয়েরা কিংবা অনগ্রসর কোনও ছাত্রছাত্রী চূড়ান্ত সফলতা পেলে সমাজে সবাই বিস্মিত হয়ে যায়। গ্রামাঞ্চলে যেসব পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, সেই সব পরিবারের মধ্যেও কিছুকিছু পরিবার চায় তাদের সন্তান শিক্ষিত হোক। তাঁরা কিছুটা জোর করেই ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠান। আবার কেউ কেউ শুধু মাত্র মিডডে মিলের জন্যই স্কুলে আসে। গ্রামের স্কুলের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কিছুকিছু ছেলে মেয়েদের বাড়ির অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে তারা রাতের খাবারের জন্য দুহাতা ভাত বেশি নিয়ে রাখে টিফিন বক্সে। এই সব ছেলে মেয়েরা স্কুলে এসে শিক্ষকদের সান্নিধ্য পেত। কখনও কখনও শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের আলাদা আলাদা করে সময় দিয়ে কথা বলে বা বুঝিয়ে অন্তত কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস কাটিয়ে ছেলেমেয়েদের বিজ্ঞান মনষ্ক করে তোলেন। শিক্ষকদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও নেই ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করবে বা সরকারি চাকরি পাবে। তাঁরা চান ছেলেমেয়েগুলো কিছুতে সই করার আগে নিজে পড়ে বুঝে সই করতে পারে কিংবা অসুখ হলে, সাপে কামড়ালে হাতুড়ে বদ্যির কাছে না গিয়ে যেন দ্রুত হাসপাতালে যায়।

আমরা কী ভাবছি

সমস্যা মূলত গোড়াতেই। কেননা শিক্ষা ব্যবসায় যত শিক্ষার চাহিদা বাড়বে, শিক্ষা এবং তার সামগ্রীর দাম ও বিক্রি তত বাড়বে। তাই সব কিছুর মতোই শিক্ষারও কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করা শুরু হয়েছে সমাজে। আগে যেমন স্কুলে পড়তে গেলে একটা স্কুল ব্যাগ, বই খাতা আর পেন আবশ্যিক ছিল, এখন তেমন ফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ, মাসে মাসে নেট বা ওয়াইফাই বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এখন গ্রামাঞ্চলে যাদের দিনে আয় করে রাতে খেয়ে সংসার চলে তাদের ক'জনের পক্ষে নতুন এই শিক্ষা ব্যবস্থার খরচ বহন করার ক্ষমতা আছে? এক্ষেত্রে মনে করা ভালো কেন্দ্রীয় সরকার গত বাজেটে জিডিপির চার-শতাংশ (৪%) শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করেছেঅতএব যদি ধরে নেওয়া যায় একটা পরিবারের মাসিক আয় ৫০০০ টাকা, তবে সে তার সন্তানদের জন্য মোট ২০০ টাকা ব্যয় করতে সক্ষম। দেশের সর্বাধিক প্রচলিত ইন্টারনেট পরিসেবা প্রদানকারী হিসাবে যে কম্পানিগুলো বিজ্ঞাপন দেয় তাদের ২৮ দিনের নুন্যতম খরচ ২৩৯ টাকা। খাতা পেন বই বাদ রেখে স্কুলের মাইনেও এর সঙ্গে সাথে যুক্ত হয়। এখানেই মাসিক খরচা ৫০০ পেরিয়ে যায়। এবার বাস্তবে চিন্তা করুন আমাদের নিজেদের ঘনিষ্ঠ পরিচিত মহলে কোনও ছাত্রছাত্রীর পড়াশুনোর পেছনে মাসিক খরচ কত। হঠাৎ লকডাউন হওয়ায় খুব নগ্নভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু এর শিকড় বহু আগে থেকেই অন্য ভাবে প্রথিত হচ্ছে জমির অন্তরালে। দোষ বা ভুল কার এই প্রশ্নে অযথা দোষারোপ করে সমাধান মিলবে না। কিন্তু যেভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার বেসরকারি করন হচ্ছে তা সচেতন ভাবেই প্রত্যেক নাগরিকের শিক্ষার মৌলিক অধিকারকে অস্তিত্বের সঙ্কটে দাঁড় করাচ্ছে। অবশ্য খাদ্যের অধিকার সুনিশ্চিত না করে শিক্ষার অধিকার নিয়ে লড়াই এক প্রহসন। কেননা প্রমিসিং মানি অর্থাৎ আমাদের কাগজের টাকা আর প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট; কোনওটাই খাওয়া যায় না।


বিকল্প কী হতে পারে

এই  মুহূর্তে হঠাৎ করে সম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার পদ্ধতি বদলে দেওয়া সম্ভব না এদেশে। এই লকডাউন পরিস্থিতিতে শিক্ষা যে সমাজের জরুরি অঙ্গ নয় তা সরকারি নির্দেশিকা স্পষ্ট করে দেয়। যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজকে জরুরি পরিসেবার অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনে ৫০% ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিতে অদলা বদলি করে পড়াশুনো চালাতে হবে। ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক- শিক্ষাকর্মীদের  প্রতিদিনের যাতায়াত সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। ইন্টারনেট পরিসেবার উপর নির্ভর করে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পড়াশুনো গ্রামাঞ্চলে নিম্নবিত্ত পরিবারের কাছে বাস্তবে হাস্যকর। প্রয়োজনে স্কুল কলেজে যেভাবে হাত ধোয়া শেখানো হয় নির্মল বিদ্যালয় অভিযানে, সেভাবেই নিয়ম মাফিক করোনার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধির অভ্যাস তৈরির পাশাপাশি শ্রেণী কক্ষে সামনাসামনি পঠন পাঠনও চালানো যায়।

এই সময়ে কর্মশিক্ষা যে বিষয় থাকে বিদ্যালয়ে, সেই বিষয়ের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন বাস্তব সময়ের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে। কেননা এই তীব্র আর্থিক মন্দায় অর্থের টান স্কুলের সাথে সম্পর্কের শিকড় খুব সহজেই ছিঁড়ে দিতে পারে।

কবে করব জয়

ভারতে স্বাক্ষরতার হার ৭৪%। অর্থাৎ এদেশের ৭৪% মানুষ কেবল নিজের নাম সই করতে জানেন এবং জাতীয় শিক্ষামন্ত্রক জানাচ্ছে ২০৩০ এর মধ্যে ভারতের স্বাক্ষরতার হার সম্পূর্ণ করা হবে। যদি এখনও দীর্ঘ আট বছর সময় লাগে সকলের অক্ষরজ্ঞান লাভে, তবে প্রকৃত শিক্ষা সর্বস্তরে পৌঁছাতে কত সময় লাগতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ভারতের সংবিধানে শিক্ষার অধিকার-বোধ মানুষের মধ্যে কোনও ভাবেই পৌঁছায়নি। এই কাজ যেমন সরকারের করার কথা ছিল তেমন শিক্ষিত হওয়ার দরুন আমাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে সমাজে শিক্ষার প্রসারে। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের শুধুমাত্র সংবিধানের ধারা মনে করিয়ে দেওয়া শিক্ষা প্রসারে একমাত্র ভূমিকা হতে পারে না। সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে কেন শিক্ষা প্রয়োজন এই বোধ মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তোলা দরকার। কোনও সরকার বা রাষ্ট্রের দায় নেই মানুষের অধিকার বোধ সম্পর্কে তাদের সচেতন করার। কিন্তু আমরা যারা নিজেদের শিক্ষিত বলে দাবি করি, তাদের অবশ্যই দায় থেকে যায় সবাইকে নিয়ে একসাথে এগোনোর। 

দুঃখের বিষয়, যে আলোচনা সংসদে বা সর্বদলীয় বৈঠকে হওয়ার কথা ছিল, তা আমরা ব্লগে কিংবা সোশাল সাইটে আলোচনা করে কাঁধ থেকে দায় ঝাড়ছি।

Comments

Popular Posts